নগদের প্রশাসককে সাবেক এমডির হুমকির অভিযোগ, বনানী থানায় জিডি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:২১  

মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত প্রশাসককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নতুন প্রশাসকের ওপর নজরদারি করতে তার কক্ষে গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর নতুন প্রশাসক নিরাপত্তা নিয়ে আরও আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

পরিস্থিতি জটিল পর্যায়ে পৌঁছলে নিরাপত্তা চেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় জিডি করেছেন গদের প্রশাসক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। জিডিতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

জিডিতে একটি ফোন নম্বর উল্লেখ করে বদিউজ্জামান দিদার বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর নগদের সাবেক সিইও তানভীর এ মিশুক তার মুঠোফোনে হোয়াসটঅ্যাপের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি ওই খুদে বার্তার বক্তব্যে ‘একধরনের হুমকি বোধ’ করছেন। সে কারণে তিনি এ বিষয়ে জিডির আবেদন করেন।

জিডির তদন্ত কাজে নিয়োজিত হয়েছেন বনানী থানার উপপরিদর্শক কর্মকর্তা মো. সৈকত। তবে জিডিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তানভীর আহমেদ মিশুকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। নগদে যখন প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত হয়, তখন তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

সরকার পরিবর্তনের পর গত ২১ আগস্ট ‘নগদ’ পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় ছয়জন কর্মকর্তাকে ‘সহায়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা নগদের কার্যালয়ে গিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এই সিন্ডিকেটটি বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে আর্থিক খাতে একের পর এক অনিয়ম করেছে। লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করেছে। এককভাবে সরকারি সব ভাতা বিতরণের কাজ কুক্ষিগত করেছে। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করেছে। যদিও তাদের সেই অর্থে কোনো মালিকানা ছিল না। এতসব অপরাধ করেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। উল্টো এখনও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। এটিকে বিস্ময়কর বলব নাকি আমাদের নিয়তি বলব বুঝতে পারছি না।’

তবে নগদ আগের মতোই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটিতে আগের কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মারুফুল ইসলাম দায়িত্বে নেই। এই তিনজনই নগদের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত।

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট নগদকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অধিগ্রহণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে কর্মরত পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদারকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। আরও ৬ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয় তার সহযোগী হিসেবে। নগদে নিয়োগ পাওয়া এই ৬ কর্মকর্তা হলেনÑ অতিরিক্ত পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক আনোয়ার উল্যাহ্, পলাশ মন্ডল ও যুগ্ম পরিচালক (আইসিটি) আবু ছাদাত মোহাম্মদ ইয়াছিন এবং উপপরিচালক (আইসিটি) চয়ন বিশ্বাস ও মো. আইয়ুব খান।